রাজধানীর বংশাল থেকে নিখোঁজের সাত দিন পর ১১ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র মো. জিসানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে তাকে উদ্ধার করে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিখোঁজ ডায়েরির তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুল ইসলাম।
জিসান গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানার চরমাদারীপাড়া এলাকার সাজু মিয়ার ছেলে। সে বংশাল থানাধীন সাতরওজা খাজে নেহাল জামে মসজিদের মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। গত ২১ সেপ্টেম্বর আসরের নামাজের পর মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে পরদিন বংশাল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন তার বাবা।
তদন্তে পুলিশ মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। ফুটেজে জিসানকে মাদ্রাসা থেকে বের হতে দেখা গেলেও এরপর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে তার বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জিসানের ছবি ছড়িয়ে দেন।
এ সুযোগে একটি প্রতারক চক্র জিসানকে অপহরণ করা হয়েছে দাবি করে তার বাবার ইমু নম্বরে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। দেনদরবারের পর ১০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন তিনি। প্রতারকদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর পর জিসানকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হলেও পরে আবারও টাকা দাবি করা হয়। অন্য একটি নম্বর থেকেও পুলিশ পরিচয়ে টাকা চাওয়া হয়। একপর্যায়ে আরও ৩ হাজার টাকা দাবি করলে পরিবারের সদস্যরা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং আর টাকা দেননি।
পুলিশ বিকাশ নম্বরটি পর্যালোচনা করে জানতে পারে, সেটি গাজীপুরের শ্রীপুর থানা এলাকার। পরে সেখানে খোঁজ নিয়েও জিসানের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা জিসান নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি সে অস্বীকার করলেও পরে তার বিছানার বালিশের নিচ থেকে ওই মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, এ ঘটনায় ভয় পেয়ে ২১ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায় জিসান।
পরে তদন্তে জানা যায়, মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে জিসান সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে একটি লঞ্চে চাঁদপুর যায়। সেখানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার অটোমেকানিক সৈকতের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একই দিন সৈকতের সঙ্গে সে ঢাকায় ফিরে আসে। এরপর কয়েক দিন সৈকতের গ্যারেজে কাজ করে এবং তার বাসায় অবস্থান করে।
জিসান নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে সৈকতকে জানায়, তার বাবা মারা গেছেন এবং মা অন্যত্র বিয়ে করেছেন। পরে তার কথাবার্তায় সন্দেহ হলে সৈকত জিসানের মুখস্থ থাকা তার খালার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে বিষয়টি তাকে জানান। এভাবেই জিসানের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
এসআই রাশেদুল ইসলাম জানান, তদন্তের শুরুতে তারা শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করেছিলেন। পরে তদন্তে জানা যায়, সে নিজেই মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছিল। এ সুযোগে একটি প্রতারক চক্র পরিবারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
তিনি আরও জানান, জিসানের বাবার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত বিকাশ নম্বরটি দিয়ে চক্রটি আরও অনেকের কাছ থেকেও টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
পরে জিসান যে ব্যক্তির কাছে অবস্থান করছিলেন, তিনি তার খালার নম্বরে যোগাযোগ করেন। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে বংশাল থানা পুলিশ জিসানকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং পরে তাকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়।
জি বাংলা ডেস্ক